ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রানঅফ ভোটের ঠিক এক সপ্তাহ আগে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বিতর্কে তুমুল ব্যক্তিগত আক্রমণে মাতলেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। রোববার সন্ধ্যায় সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে দুজনেই পরস্পরকে "মিথ্যাবাদী" বলে একাধিকবার আক্রমণ করেন এবং দুর্নীতি, সরকারি ব্যয়, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তর্কে জড়ান।
ছবি: আল জাজিরা
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, লুলা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে "চিরায়ত মিথ্যাবাদী" ও "গুন্ডা" বলে আখ্যায়িত করেন এবং মঞ্চে তাঁর থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখেন। ফ্লাভিও বোলসোনারোর সঙ্গে রিও ডি জেনেইরোর আধাসামরিক গোষ্ঠীর কথিত যোগসূত্রের ইঙ্গিত করে তিনি তাঁকে "মিলিশিয়া সদস্য" বলেও ডাকেন। জবাবে ৪৫ বছর বয়সী বোলসোনারো লুলাকে "জোকার" বলেন এবং মজা করে বলেন, লুলার থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো—"কারণ আমার মানিব্যাগ চুরি হয়ে যেতে পারে"।
অক্টোবরের প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও বোলসোনারো ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে লুলার ৪৫ শতাংশকে ছাড়িয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে। জাইর বোলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচন বাতিলের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং বর্তমানে গৃহবন্দী। বিতর্কে লুলা তাঁর প্রতিপক্ষকে প্রশ্ন করেন, তিনি কখনো বাসে উঠেছেন বা সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যবহার করেছেন কি না—"আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বাসের নাম জানে শুধু বই থেকে"। জবাবে বোলসোনারো তাঁর বাবার করোনা মহামারি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার জন্য "মিয়া কুলপা" (দোষ স্বীকার) প্রকাশ করেন।
ভোটের আগে মিছিল-সমাবেশ
বিতর্কের আগে রোববার সারাদেশে দুই পক্ষের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে শক্তি প্রদর্শন করে। সাও পাওলোর পাউলিস্তা অ্যাভিনিউতে জাতীয় পতাকার হলুদ-সবুজ রঙে সেজে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়ে ফ্লাভিও বোলসোনারোর পক্ষে শোভাযাত্রা করে। এদিকে লুলার লাল পোশাকধারী সমর্থকরা রিওর কোপাকাবানা সৈকত, ব্রাসিলিয়া ও আরও ১৬টি রাজ্য রাজধানীতে জমায়েত করে।
একই দিনে ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ তাঁর ঘনিষ্ঠ এক আইনজীবীর সঙ্গে জড়িত অর্থপাচারের অভিযোগে ফ্লাভিও বোলসোনারোর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুরোধ জানায়। এর আগে তাঁর বাবা জাইরের জীবনী নিয়ে সিনেমার অর্থায়নকারী বিতর্কিত সাবেক ব্যাংকার ড্যানিয়েল ভোরকারোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও তদন্তের মুখোমুখি হন তিনি। দুটি ক্ষেত্রেই তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে ২০১৮-১৯ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ৫৮০ দিন কারাভোগ করেছিলেন লুলা; পরে তদন্ত-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে সেই দণ্ড বাতিল হয়।
জনমত জরিপে এখনো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে, তবে প্রথম দফায় প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ফ্লাভিও বোলসোনারোর সামান্য সুবিধা রয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটার—অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনের একজন—ভোট দেননি; রানঅফে তাদের টানতে দুই শিবিরই মরিয়া। দ্বিতীয় ও শেষ বিতর্ক হবে ২৩ অক্টোবর, ভোটের ঠিক দুদিন আগে। ভোট ২৫ অক্টোবর।
সূত্র: আল জাজিরা