নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুতফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত প্রায় ১টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার মধ্যবাজার এলাকা থেকে আটক হন।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপূর্ব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পূর্বেও মামলায় গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, অপূর্ব এর আগেও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ওই মামলায় গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ওসির ভাষ্য, আলিফের হত্যাকাণ্ডের পেছনে ৫-৬ জনের সরাসরি জড়িত থাকার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে এবং এর পেছনে অর্থায়নকারীদের নিয়ে আরও বড় একটি চক্র থাকতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, আলিফকে টার্গেট করার আগের একটি চেষ্টায় আলিফের সদৃশ এক পুলিশ সদস্যকে ভুল করে গুলি করে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
গত ১৫ অক্টোবর রাত প্রায় সোয়া ৮টায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে দুর্বৃত্তরা আলিফকে গুলি করে হত্যা করে। চা-দোকান থেকে বেরিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ির কাছাকাছি ছিলেন, এসময় মোটরসাইকেলে আসা দুজন গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ছয়টি গুলির আঘাত পাওয়া যায়—পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়, আরেকটি পিঠে আটকে ছিল।
আলিফ রূপসী বাংলা টেলিভিশনের নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন এবং "ডিটেকটিভ আর্টিকেল" নামের ফেসবুক পেজে মাদক পাচার, চোরাচালান ও দুর্নীতির ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।