English
ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
জাতীয়

খালে পানি থাকলেও জমিতে পৌঁছায় না: তিস্তা প্রকল্পে কৃষকের ভোগান্তি

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর: তিস্তা সেচ প্রকল্পের খালে পানি প্রবাহিত হলেও উত্তরের হাজারো কৃষক জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। অনেক খালে পলি জমে গেছে, পানির স্তর জমির তুলনায় নিচে, কিংবা শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর চাপ নেই। ফলে ডিজেলচালিত লো-লিফট পাম্প, শ্যালো টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎচালিত পাম্পে নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা—প্রতি বিঘায় প্রতি মৌসুমে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ গুনছেন তাঁরা।

খালে পানি থাকলেও জমিতে পৌঁছায় না: তিস্তা প্রকল্পে কৃষকের ভোগান্তি

বোরো ধান, ভুট্টা, গম ও সবজি চাষে সহায়তা করা এই প্রকল্প ২০০০ সাল থেকে পূর্ণমাত্রায় সেচ দিচ্ছে। কিন্তু ২৬ বছর পরও খালের পানি জমিতে না পৌঁছায় প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত বহু কৃষক। বিশেষ করে খালের পাশের এলাকা ও বিতরণ নেটওয়ার্কের শেষ প্রান্তের কৃষকদের এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

প্রকল্পের পটভূমি

পাউবো সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২-৬৩ থেকে ১৯৬৭-৬৮ অর্থবছরে বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের পাইলট বাস্তবায়ন করা হয়। মডেল গবেষণার পর ১৯৭৯ সালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানিতে তিস্তা ব্যারেজের নির্মাণ শুরু হয়; ১৯৮৯ সালে নির্মাণ শেষ হয়, আর ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে সেচ খালের কাজ শুরু হয়। ১৯৯০ সালে ব্যারেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তিস্তা খাল দিয়ে পরীক্ষামূলক সেচ শুরু হয়ে ২০০০ সালে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হয়।

তিস্তা নদীর পানিকে মাধ্যাকর্ষণ-চালিত পদ্ধতিতে সেচে ব্যবহার করা হয়। প্রকল্পের মোট আয়তন ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর; প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩১০ হেক্টরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। সেচযোগ্য ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টরের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮৪ হাজার ৫৬৫ হেক্টরে সেচ অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। প্রকল্প ছয় জেলার ২৫ উপজেলা জুড়ে হলেও বর্তমানে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের ১২ উপজেলায় সেচ সেবা চালু আছে।

খালে পানি, জমিতে নয়

সম্প্রতি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার শেরপুর স্লুইস গেটের দক্ষিণে সরেজমিনে দেখা যায়, খাল দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে, অথচ মোল্লাপাড়া, দরগাপাড়া, কুটিপাড়া, দারারপাড়, ভাদুপাড়া, শিয়ালগাড়ি, গাইলবাড়ী, মণ্ডলপাড়া, মুচিপাড়া ও অবিনাশপাড়ার কৃষকরা হাজারো একর জমিতে ডিজেল পাম্পে সেচ দিচ্ছেন। শুধু তারাগঞ্জ নয়—ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, গংগাচড়া, বদরগঞ্জসহ দূরবর্তী শেষ প্রান্তের অনেক এলাকার কৃষক খাল থেকে পানি তোলার সুবিধার অভাবে পর্যাপ্ত সেচ পাচ্ছেন না।

কৃষকদের ক্ষোভ

তারাগঞ্জের কুশা ইউনিয়নের শেরপুরের কৃষক যোগ্য রায় বলেন, "খাল এখানে আমাদের কোনো কাজে আসে না। প্রচুর পানি থাকলেও জমিতে তুলতে পারি না। দুই বছর আগে অনেক চেষ্টা করে পানি তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি।" শ্যালো মেশিন ও মোটর পাম্পে শত শত বিঘা জমিতে সেচ হয়; প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ। আরেক কৃষক সুভাষ চন্দ্র রায়ের প্রশ্ন, খাল যদি কাজেই না লাগে, তবে লাভ কী? তাঁরা সেচ বাবদ প্রতি বিঘায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা দেন। সরকারি উদ্যোগে সোলার পাম্প চান কৃষকরা—বিশেষজ্ঞদের মতেও সোলার-চালিত লো-লিফট পাম্প কার্যকর সমাধান হতে পারে। পাউবো জানিয়েছে, ইতিমধ্যে কিছু জায়গায় সোলার পাম্প বসানো হয়েছে।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা