ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সে শনিবার (১৭ অক্টোবর) লাখো মানুষের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লর্যাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সারা দেশে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে আয়োজক সংগঠন সিজিটির দাবি, অংশগ্রহণকারী ছিল ৮ লাখেরও বেশি।
শহর-ভবনে আগুন, দোকানে লুটপাট
বেশিরভাগ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে সহিংস রূপ নেয়। লিমোঁ শহরের ১৪০ বছরের পুরনো শহর-ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, মার্সেইতে কালো পোশাকধারী বিক্ষোভকারীরা শহর-ভবনে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং লিওঁতে পর্যটন অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বর্দো, লিমোঁ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গে বিলাসবহুল দোকান ও সুপারমার্কেটে লুটপাট হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন, কৃষক, জলবায়ু কর্মী এবং 'হলুদ পোশাক' (ইয়েলো ভেস্ট) আন্দোলনের সমর্থকেরা।
আটক ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানান, বিক্ষোভ চলাকালে ১ হাজার ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ১৫০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, সহিংসতার কাছে সরকার ভীত হবে না; সহিংসতার জন্য 'উগ্র বামপন্থি' ও অপরাধীদের দায়ী করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি দেওয়া হবে। সামনের বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। ব্রাসেলসে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও পানি কামান ব্যবহার করে।
সূত্র: রয়টার্স