ঢাকা, ১৭ অক্টোবর: ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের হত্যাকাণ্ডকে "আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর গুরুতর আঘাত" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয়বারের হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে দলটি।
যা ঘটেছিল সাতক্ষীরায়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার দেবহাটার কুলিয়া বাজারে ৩৮ বছর বয়সী শামীমকে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর আবার হামলা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মঙ্গলবার রাতে তিনি মারা যান।
এনসিপির দাবি ও অভিযোগ
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, "কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার কোনো গোষ্ঠীর করার অধিকার নেই; এই দায়িত্ব রাষ্ট্র ও আইনসঙ্গত বিচারব্যবস্থার।"
বিবৃতিতে হামলার মূল প্ররোচক হিসেবে ক্বারী ফজলুল হক আমেনীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে স্থানীয় যুবদল কর্মী সাদিকুল ইসলাম এবং সরকারি খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ কলেজ ছাত্রদল আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুলের বিরুদ্ধে।
চিকিৎসাধীন রোগীর ওপর হামলা করতে একটি বড় ভিড় হাসপাতালে কীভাবে ঢুকল — তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। শুধু হত্যাকাণ্ডের নয়, দ্বিতীয় হামলা ঠেকাতে না পারার ব্যর্থতারও তদন্ত দাবি করেছে দলটি। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে উভয় হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটানো অডিও ক্লিপের উৎস, সত্যতা ও প্রেক্ষাপট তদন্তের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।
শামীমের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন — বিষয়টির যথাযথ যাচাই দাবি করেছে দলটি। "অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা, গণপিটুনিকে কখনো ন্যায্য বলা যায় না," বলেছে এনসিপি। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আইনসঙ্গত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়ভীতি বা প্রতিশোধ থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি ন্যায়বিচার পেতে পরিবারের জন্য আইনি সহায়তাও দাবি করেছে এনসিপি।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা