ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৪ জন, আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।
ছবি: আনাদোলু
মঙ্গলবার প্রাদেশিক গভর্নর আওয়াদ বিন আল-ওয়াজির এই হালনাগাদ তথ্য জানান বলে সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও নিহত-নিখোঁজদের পরিবারকে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হামলাকে "নজিরবিহীন অপরাধ" আখ্যা দিয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান গভর্নর।
সোমবার শাবওয়ার শহীদ আহমেদ আল-সুলাইমানি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সে সময় সেখানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আহত ও রক্তাক্ত মরদেহ দেখা গেছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, শিবিরটি সৌদি বাহিনী পরিচালনা করত। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তাইজে রকেট হামলা
একই দিন দক্ষিণ-পশ্চিমের তাইজ শহরেও হুথিদের হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে। সাবার খবরে বলা হয়, শহরের উত্তরে মাউন্ট আল-ওয়াশে হুথি অবস্থান থেকে ছোড়া কাতিউশা রকেট ঘনবসতিপূর্ণ সাইনাহ এলাকায় আঘাত হানে। এতে এক কিশোরী নিহত এবং নারী-শিশুসহ আটজন আহত হন।
এক চিকিৎসা সূত্র জানায়, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলায় দুটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আরেক ঘটনায় তাইজের সাবর আল-শাকাব এলাকায় হুথিদের গুলিতে নিহত ১৮ বছর বয়সী তাইবা আবদুলরাকিবকে সরিয়ে নেওয়ার সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে মর্টার হামলা চালানো হয়। এতে তাইবার সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সচালক নিহত হন, আহত হন একজন চিকিৎসক। ধ্বংস হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি।
সেপ্টেম্বরে হুথিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালীর কাছে অগ্রসর হওয়ার পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে তাদের লড়াই তীব্র হয়েছে। চলতি মাসে সরকারি বাহিনী হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে অভিযান শুরু করেছে, আর হুথিরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে তাইজ শহর। শাবওয়া এডেন উপসাগরের তীরে জ্বালানি-সমৃদ্ধ প্রদেশ, যেখানে ইয়েমেনের বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র অবস্থিত।
সূত্র: রয়টার্স