ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
অর্থনীতি আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৫ শতাংশ, সুদ বাড়ানোর চাপ বাড়ল

যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৫ শতাংশ, সুদ বাড়ানোর চাপ বাড়ল

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

ব্রিটেনে মূল্যস্ফীতি আবার মাথা তুলেছে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক ভোক্তা মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ৩.৫ শতাংশে, আগস্টে যা ছিল ৩.১ শতাংশ। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরের পর এটাই সর্বোচ্চ বার্ষিক হার। জ্বালানি তেলের চড়া দামই এই উল্লম্ফনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ।

মাসিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ০.৪ শতাংশ, যেখানে গত বছর সেপ্টেম্বরে তা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। পরিবহন, বিশেষ করে মোটর জ্বালানি, বার্ষিক হারের ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। রেস্তোরাঁ ও হোটেল খাত কিছুটা বিপরীত টান দিয়েছে, তবে তা যথেষ্ট হয়নি।

অন্তর্নিহিত মূল্যচাপও বেড়েছে। জ্বালানি, খাদ্য, অ্যালকোহল ও তামাক বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর মূল্যস্ফীতি আগস্টের ২.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২.৮ শতাংশ। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড যাকে অন্তর্নিহিত চাপের নির্দেশক হিসেবে দেখে, সেই সেবা খাতের মূল্যস্ফীতি ৩.৪ শতাংশ থেকে লাফিয়ে উঠেছে ৩.৭ শতাংশে, যা অর্থনীতিবিদদের ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। বাড়িওয়ালার আবাসন খরচসহ হিসাব করা সিপিআইএইচ বেড়ে হয়েছে ৩.৬ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ৩.৩ শতাংশ।

রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদদের মধ্যম পূর্বাভাস ছিল ৩.৪ শতাংশ, বাস্তব সংখ্যা তার চেয়েও বেশি। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জুলাইয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাসে মাত্র ৩.০ শতাংশের কথা বলেছিল। গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলিসহ নীতিনির্ধারকরা আগেই সতর্ক করেছেন, জ্বালানির দাম যত বেশি দিন চড়া থাকবে, সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তত বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা এখন আশা করছেন, আগামী মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেঞ্চমার্ক ব্যাংক রেট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করবে, যা তিন বছরের মধ্যে প্রথম বৃদ্ধি হবে। ফেব্রুয়ারিতে উপসাগরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নীতি সুদ অপরিবর্তিত আছে।

ওএনএসের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রান্ট ফিটজনার বলেছেন, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক হারে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই আবার প্রধান চালক, আর ডিজেলের দাম ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন সার্টোরিয়াসের মতে, পাম্পে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি চড়েছে। তিনি আশা করছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বিস্তৃত মূল্যচাপের কারণে আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। তাঁর মতে, মুদ্রানীতি কমিটির পরের বৈঠকে সুদ বাড়ানো দৃঢ়ভাবে টেবিলে থাকবে।

এই তথ্য এসেছে অর্থমন্ত্রী জন হিলির প্রথম বাজেটের ঠিক এক সপ্তাহ আগে। জ্বালানির দামে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আরও সহায়তার দাবি এখন আরও জোরালো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় উপসাগর যুদ্ধের ধাক্কা পশ্চিমা অনেক দেশের চেয়ে ব্রিটেনে বেশি পড়েছে বলে রয়টার্সের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স