বাংলাদেশ সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গণি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৯ সাল থেকে নতুন ভবনে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, ৩১.৫৮ একর জমির ওপর ১৪টি ১২তলা ভবন নির্মাণ করা হবে—প্রতিটিতে থাকবে তিনটি বেজমেন্ট। মোট ফ্লোর স্পেস হবে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট, যা বর্তমান সচিবালয়ের তুলনায় প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি। ৩ হাজার ৮০০ গাড়ির পার্কিং, একটি মসজিদ, ৩৫০ আসনের দুটি বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর থাকবে কমপ্লেক্সে; প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ রাখা হবে সবুজ ও জলাশয়ের জন্য।
নতুন সচিবালয় গড়ে তোলা হবে শেরেবাংলা নগরের জন্য স্থপতি লুই আই কানের তৈরি মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে। তবে হুবহু তাঁর নকশা অনুকরণ করা হবে না বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রকল্পটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে; মোট ব্যয় এখনো নির্ধারণ হয়নি।
কেন স্থানান্তর
বর্তমান সচিবালয় ১৭.৫৭ একর জমির ওপর ১৩টি ভবন নিয়ে গঠিত—এর মধ্যে আটটি ভবনই স্বাধীনতার আগে নির্মিত। ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন তৈরি হয় ১৯৩৭-৩৯ সালে, ৫ নম্বর ভবন ১৯৪৭ সালে। ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকায় এসব ভবনে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে সরকার।
এ ছাড়া জায়গার তীব্র সংকট রয়েছে—বর্তমানে দপ্তর রয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট, আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি প্রয়োজন। ১৬টি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সচিবালয়ের বাইরে থেকে কাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনায় ওয়াশরুমের সংখ্যাও অপ্রতুল।
একই বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত
মন্ত্রিসভা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলা নাম বদলে "নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়" করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদ-সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য সরকারের। পাশাপাশি বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত রটারডাম কনভেনশনে যোগদানের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে; ১৬৭টি দেশ ইতিমধ্যে এতে যুক্ত হলেও সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভুটান এখনো যোগ দেয়নি।