কলকাতা, ১৮ অক্টোবর: দুর্গাপূজার ভিড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায়। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। মহাসপ্তমীর দিন ভারী বৃষ্টির মধ্যে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চোরবাগান মণ্ডপের (যা সারদা পার্ক নামেও পরিচিত) নির্গমন গেটের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আচমকা ভারী বর্ষণ শুরু হলে ভেতরে থাকা মানুষজন আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করে, আর ভেতর থেকে বের হওয়ার পথ ছিল সরু। ফলে ভিড়ের চাপে কয়েকজন সিঁড়ির কাছে পড়ে যান, এরপর পেছন থেকে আসা মানুষের ধাক্কায় অনেকে পিষ্ট হন।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯
প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ১৭ বলা হলেও রোববার তা বেড়ে ১৯-এ দাঁড়ায়। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে। আহত ২৫ জনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সুবেন্দু অধিকারী ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকসহ ১২ জনকে আটক করেছে। কলকাতা হাইকোর্টের এক বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েন ছিল অপ্রতুল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল দুর্বল। কারও কারও দাবি, ভিআইপি প্রবেশপথের কাছে কর্মকর্তারা থাকলেও অন্য অংশে নজরদারি ছিল না। তবে এসব অভিযোগ এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
পূজা কমিটির একটি ঘোষণাও ঘটনায় ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে—সংকীর্ণ প্রবেশ ও নির্গমন পথ, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী এবং ভিড়ের গতিবিধি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ও একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আহতরা পাবেন ৫ লাখ রুপি করে, চিকিৎসার খরচ বহন করবে রাজ্য। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লাখ ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ঘোষণা করেছেন।
কর্তৃপক্ষ চোরবাগান মণ্ডপ সিল করে দিয়েছে এবং অন্যান্য জনবহুল মণ্ডপগুলোকে সাময়িকভাবে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা, এপি