দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ৩৪টি ঘটনার বেশিরভাগই মন্দির কমিটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ, চুরি ও স্থানীয় সংঘাতের ফল, জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট বা সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সংগঠিত হামলার অভিযোগের প্রমাণ মাঠপর্যায়ের তদন্তে মেলেনি বলে দাবি পুলিশের।
ছবি: ডেইলি ওয়াদা
সোমবার বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ঘটনার পেছনে ছিল মন্দির কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল, মূল্যবান সামগ্রী চুরি, সরকারি অনুদান নিয়ে মতবিরোধ এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের ভাঙচুর।
যা অভিযোগ ছিল
গত বৃহস্পতিবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি জানায়, দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে এবং প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।
পুলিশের ব্যাখ্যা
পুলিশের বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পাবনা, ঠাকুরগাঁও ও টাঙ্গাইলের ছয়টি ঘটনার বিশদ উল্লেখ করা হয়, যেগুলো সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রচার হলেও তদন্তে তা প্রমাণিত হয়নি। যেমন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ১৬ অক্টোবর যানবাহন থেকে অস্থায়ী মণ্ডপে নেওয়ার সময় দুর্ঘটনাবশত একটি প্রতিমার অসুর-মূর্তির ডান হাত সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়—মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও এটি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তায় বড় মোতায়েনও চলছে। সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা দিচ্ছে বিজিবির প্রায় ১০ হাজার সদস্য, আর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সারাদেশে মোতায়েন করেছে ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি সদস্য। বিজয়া দশমী পালিত হবে ২১ অক্টোবর।