ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির বোঝা কমাতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য
বিদ্যুৎ বিভাগ ইতিমধ্যে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। এই কৌশলপত্রের আওতায় আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও স্থাপনার মালিকদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রণোদনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
ওপেক্স ও ক্যাপেক্স—দুই মডেল
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর সম্পূর্ণ অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এটি ‘ওপেক্স’ মডেল নামে পরিচিত। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লাভের কথা বিবেচনা করে নিজেদের অর্থে অর্থাৎ ‘ক্যাপেক্স’ মডেলে প্যানেল বসাতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর মেয়াদে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদ ব্যবহারের বিনিময়ে ভবনের মালিকের প্রাপ্য এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব—এসব বিষয়ে বিদ্যমান আইনগুলোতে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় সব আইনি জটিলতা দূর করতে এই নতুন অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
রটারডাম কনভেনশনেও যোগদান
একই বৈঠকে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।