ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় ডাকাতি

কক্সবাজারে পাহাড়ি সড়কে দুই দফায় ডাকাতি: ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট, গ্রেপ্তার কেউ নয়

কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দিনের বেলায় দুই দফায় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী একদল ডাকাত যানবাহনের গতিরোধ করে শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ও দুপুরে পৃথক দুই দফায় এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারে পাহাড়ি সড়কে দুই দফায় ডাকাতি: ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট, গ্রেপ্তার কেউ নয়

ছবি: প্রথম আলো

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশধারী একটি সশস্ত্র দল সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহন থামায়। এরপর যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে শরীর তল্লাশি করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতদের কবলে পড়া অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের বেশির ভাগই ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা

একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

একই সড়কে ডাকাতির শিকার হয়েছেন আরেকটি বেসরকারি সংস্থার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম। তিনজন একটি অটোরিকশায় ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে ডাকাতেরা তাঁদের জিম্মি করে জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেয়। এদিকে ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে রক্ষা পান।

পুলিশের অবস্থান

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাঁদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

যাত্রীদের ক্ষোভ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা ধরে লুটপাট চললেও ঘটনার সময় সড়কটিতে পুলিশের টহল ছিল না। স্থানীয় যাত্রীদের ভাষ্য, এই সড়কে ডাকাতি ও অপহরণ প্রায়ই ঘটে, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও অহরহ ঘটছে। অথচ যাত্রীদের নিরাপত্তায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।