সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ আবেই অঞ্চলের আমিয়েত বাজারে সোমবার ড্রোন হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দাবিতে বড় ফারাক রয়েছে।
ছবি: জাতিসংঘ
আবেইয়ের স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলায় ৫৩ জন নিহত ও অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছে। তাদের দাবি, সুদানের সেনাবাহিনী ২২টি গোলা নিক্ষেপ করে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, ব্যবসায়ী, স্থানীয় নগোক ডিংকা সম্প্রদায়ের সদস্য, দক্ষিণ সুদানে ফেরত আসা মানুষ ও শরণার্থী রয়েছে বলে প্রশাসনের ভাষ্য।
অন্যদিকে আবেই প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী ইয়োহানা আকোল নগোর বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৫৩। তার দাবি, হামলায় বাজারের পাশের একটি জ্বালানি ডিপোতে আগুন ধরে যায় এবং আগুন জ্বলতে থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছিল। হামলাটি সোমবার সকাল ১১টার দিকে হয় বলে তিনি জানান।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেছেন, আমিয়েত বাজারে অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। তিনি ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলাকে "গভীর উদ্বেগজনক ধারা" বলে অভিহিত করেন।
কে কী বলছে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুদানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এপিকে বলেছেন, সেনাবাহিনী দক্ষিণ সুদান থেকে আসা জ্বালানি ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেগুলো আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) কাছে যাচ্ছিল বলে তাদের দাবি। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, নিহতরা আরএসএফ সদস্য ও জ্বালানি চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তি। তিনি বলেন, "আমরা বেসামরিকদের লক্ষ্য করি না।" এপি জানিয়েছে, তাদের দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।
দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করে হামলার "কঠোরতম ভাষায়" নিন্দা জানিয়েছে এবং সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বাজারটি আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, আমেথ বেক হাসপাতালে ২০ জনের বেশি আহতকে আনা হয়, যাদের মধ্যে পোড়া রোগীও ছিল। সংস্থাটি বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সহিংসতার ঢেউ
এএফপির খবরে বলা হয়, রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত সুদানজুড়ে হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় পশ্চিম কর্ডোফানের আল-দিবাব শহরের কাছে একটি পরিবহন কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় ৮০ জন নিহত হয় বলে বাসিন্দা ও চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা ও রাজধানী খার্তুমেও হামলা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে সুদানে ড্রোন হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। আবেই অঞ্চলের মালিকানা সুদান ও দক্ষিণ সুদান উভয়েই দাবি করে। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হয়।
সূত্র: এএফপি, এপি, ডন