ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বাড়তি খরচ ও এল নিনোর শঙ্কায় হুমকিতে রবি মৌসুমের ফসল

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর: বগুড়ার শিবগঞ্জের কৃষক মোহাম্মদ শাকিলের জন্য আসন্ন বোরো মৌসুম ইতিমধ্যেই গত মৌসুমের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। গত মৌসুমে ১২০ শতক জমিতে ধান চাষে বৈদ্যুতিক পাম্পে সেচ বাবদ শতকে ৬০ টাকা দিয়েছিলেন; এবার লাগছে ৮০ টাকা। ডিজেলচালিত সেচের খরচ ১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা।

বাড়তি খরচ ও এল নিনোর শঙ্কায় হুমকিতে রবি মৌসুমের ফসল

"আগে ধান রোপণে শ্রমিককে দিতাম ৫০০ টাকা, এখন লাগে ৬৫০-৭০০ টাকা। কীটনাশকও দামি হয়েছে। কিন্তু ফসলের ন্যায্য দাম পাই না," ডেইলি ওয়াদাকে বলেন শাকিল। মোটা চাল বিক্রি হয় মণপ্রতি ৭০০-৯০০ টাকায়, চিকন চাল সর্বোচ্চ ১,২০০-১,৩০০ টাকা।

রবি মৌসুমের চ্যালেঞ্জ

১৬ অক্টোবর শুরু হয়েছে রবি মৌসুম—বোরো ধান, গম, ভুট্টা, আলু, পেঁয়াজ, ডাল, তৈলবীজ ও শীতকালীন সবজির প্রধান উৎপাদন মৌসুম। এবার কৃষকদের একসঙ্গে দুটি চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে: উৎপাদন খরচের তীব্র বৃদ্ধি এবং এল নিনো-সংশ্লিষ্ট অস্বাভাবিক উষ্ণ, শুষ্ক শীতের আশঙ্কা।

সেপ্টেম্বরে সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করে। এর আগে ১৮ এপ্রিল ১০০ থেকে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। পাঁচ মাসে দুই দফায় ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩৫ টাকা, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ। জুনে বিদ্যুতের দামও বেড়েছে ১৬-১৯ শতাংশ।

ডিজেলনির্ভর কৃষি

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৭৫৪টি গভীর নলকূপ, ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৭টি অগভীর নলকূপ এবং ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৪টি লো-লিফট পাম্প রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৬ লাখ ছোট ডিজেলচালিত সেচ পাম্প চালু আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশের প্রায় ১৯ লাখ কৃষি যন্ত্রের ৭৫ শতাংশই ডিজেলে চলে।

বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম খান মনে করেন, রবি ও বোরো মৌসুমে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে ১৫-২০ শতাংশ।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবার ৫০ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্য ধরেছে। তবে লক্ষ্য পূরণ নির্ভর করবে কৃষকদের সামর্থ্য ও আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে অক্টোবর-ডিসেম্বরে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা—সেপ্টেম্বরেই বৃষ্টি ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। শীতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কবাণী—খরচ বাড়লেও ফসলের দাম না বাড়লে কৃষকের লোকসান হবে, আর প্রতিকূল আবহাওয়া ফলন কমালে খাদ্যমূল্যেও চাপ পড়বে।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা