English
ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
জাতীয়

নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডের ৩৪২ কোটি টাকার চুক্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবারের সংযোগ

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর: প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডকে (ডিইডব্লিউ) দেওয়া ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকার দুটি সরকারি চুক্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবারের সংযোগের প্রমাণ পেয়েছে ডেইলি ওয়াদার অনুসন্ধান। চুক্তির অর্থের বড় একটি অংশ পেতে যাওয়া একটি বেসরকারি কোম্পানির মালিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাকুলের ভাইপো ও ভাইঝি।

নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডের ৩৪২ কোটি টাকার চুক্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবারের সংযোগ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলো চলতি বছর ডিইডব্লিউকে দুটি চুক্তি দিয়েছে—আগস্টে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট সরবরাহে ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং জুনে প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিনে ২১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। কোনোটিতেই প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হয়নি।

টাকা ভাগাভাগির চুক্তি

চুক্তির পরদিন ২৪ আগস্ট স্বাক্ষরিত ছয় পৃষ্ঠার একটি যৌথ ব্যবসায়িক চুক্তিতে নির্ধারণ করা হয়, অর্থ কীভাবে ভাগ হবে। এতে ডিইডব্লিউ চুক্তিমূল্যের মাত্র ৪ শতাংশ রাখবে—লাভ-ক্ষতি যাই হোক, এই অংশ নিশ্চিত। ট্যাবলেটের যন্ত্রাংশ আমদানিতে সালএক্সট্রা লিমিটেড পাবে ১৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর কর ও অন্যান্য খরচ বাদে বাকি অর্থ যাবে বুরাক ব্রেক লিমিটেডের কাছে।

বুরাক ব্রেকের মালিক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাইপো সরদার রাফিন এস এ হোসেন ও তার বড় বোন আনিকা রায়দা লীয়া। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর কোম্পানি নিবন্ধনের সময় রাফিনের বয়স ছিল ১৯ বছর। এর আগে কোম্পানিটির ট্যাবলেট বা ইলেকট্রনিক্স সরবরাহের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি; গুলশান-২-এর একটি ফ্ল্যাটে এর নিবন্ধিত কার্যালয়।

অভিযোগ অস্বীকার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বাকুল বলেন, "বুরাক ব্রেক লিমিটেড নামে কোনো কোম্পানির আমি খবর রাখি না। আমার পরিবারের কেউ ব্যবসায় জড়িত নয়।" রাফিন তার ভাইপো—এ কথা স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে মন্ত্রীর ছোট ভাই সরদার তোফাজ্জেল হোসেন লিয়াকতকে ক্রয়প্রক্রিয়া চলাকালে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দেখা গেছে—এমন ছবি পেয়েছে ওয়াদা। লিয়াকত দাবি করেছেন, ক্রয়-সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হয়নি; বৈঠকটি ছিল 'মুক্তি' পানীয় জল নিয়ে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন চুক্তি রক্ষা করে বলেন, মন্ত্রণালয় চুক্তি করেছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়। তবে সশস্ত্র বাহিনীকে কাজ দিতে হলে আগে অনুমতি নেওয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৪ মার্চের নির্দেশের—সে অনুমতির কোনো রেকর্ড ক্রয় ফাইলে পাওয়া যায়নি।

দাম ও মান নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিটি ট্যাবলেট কেনা হয়েছে ৪৮ হাজার টাকায়, অথচ চুক্তিতে যন্ত্রাংশ আমদানির বরাদ্দ প্রতিটি ট্যাবলেটে প্রায় ২৬ হাজার ৮২৮ টাকা। ঢাকার বাজারে স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব এ৯ প্লাসের দাম ২৯ হাজার ৫০০ টাকা—কিবোর্ড-স্টাইলাসসহ ৩৪ হাজার টাকা। ৬৬ হাজার ৮১৫টি ট্যাবলেটে এই পার্থক্য প্রায় ৯৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

আবার চীনে এসজিএসের পরিদর্শনে ১২৫টি হুইলচেয়ারের নমুনায় ৩০টিতে গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেছে—যেখানে সর্বোচ্চ ৭টি ত্রুটির অনুমতি ছিল। প্রতিবেদনে "নট কনফর্ম" উল্লেখ করা হয়। ট্যাবলেট চুক্তির পারফরম্যান্স গ্যারান্টিও ডিইডব্লিউ নিজে দেয়নি—ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েছে সালএক্সট্রার অনুরোধে।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা