ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় ফুডপান্ডা

ফুডপান্ডার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করল হাইকোর্ট

অনলাইন খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডা বাংলাদেশের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলা চারটি ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে হাইকোর্ট। সাবেক এক সরবরাহকারীর সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব মামলা করা হয়েছিল।

ফুডপান্ডার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করল হাইকোর্ট

ছবি: টাইমস অব বাংলাদেশ

বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রোববার রুল জারির পাশাপাশি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা

স্থগিত হওয়া মামলাগুলোতে আসামি হিসেবে আছেন ফুডপান্ডার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বরীন রেজা ও জুবাইর বিএ সিদ্দিকীসহ পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা। গত সপ্তাহে তাঁরা নিম্ন আদালত থেকে নিয়মিত জামিন পেয়েছিলেন।

২০২৫ সালে মামলাগুলো দায়ের করেন মো. শিহাব মাহমুদ বাশির। তিনি আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের মালিক। তাঁর অভিযোগ ছিল ডেলিভারি হিরো স্টোর্স (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বিরুদ্ধে, যারা পরিচালনা করে পান্ডামার্ট। অভিযোগগুলো ছিল প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং পণ্য ফেরত-সমন্বয় নিয়ে মতবিরোধ ঘিরে।

পাল্টা অভিযোগ ও নাটকীয় মোড়

ফুডপান্ডা শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, পাওনা অর্থ আদায়ের চাপেই বাশির এসব মামলা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য—এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক লেনদেন ও হিসাব-মিলনের বিষয়, যা চুক্তিগত বা দেওয়ানি পথে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, ফৌজদারি মামলার নয়।

ঘটনাপ্রবাহে নাটকীয় মোড় আসে অন্য দিক থেকে। গত ১১ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আদালত এক রায়ে মামলার বাদী বাশিরকেই ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দেন। চেক প্রত্যাখ্যানের অভিযোগে ডেলিভারি হিরোর দায়ের করা তিনটি মামলার একটিতে এ সাজা হয়, যা করা হয়েছিল নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস আইন, ১৮৮১-এর অধীনে।

ডেলিভারি হিরোর দাবি, ২০২২ সালে বাশিরের প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সরবরাহকারী হয়। বারবার সরবরাহে সমস্যার পর চুক্তি বাতিল করা হয়। পরে পাওনা মেটানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালে বাশির তিনটি চেক দেন—কিন্তু তহবিল অপর্যাপ্ত থাকায় তিনটি চেকই একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়। আইনি নোটিশের পরও অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় ২০২৫ সালে ধারা ১৩৮-এ তিনটি পৃথক মামলা করা হয়।

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ মানে অব্যাহতি নয়। চারটি মামলার গুণাগুণ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি; পরবর্তী বিচারিক নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।