ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয় দুর্গাপূজা

সমান অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

সমান অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: একাত্তর টিভি

বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান।

উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের। তাঁর ভাষায়, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই দেশের শক্তি: রাষ্ট্রপতি

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছেন, এটাই দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাঁর মতে, এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেশের শক্তি ও অস্তিত্বের অন্যতম ভিত্তি। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, কোনো অপশক্তিকেই বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতির পথ বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সব ধর্মের মানুষ যেন নির্ভয়ে ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে বঙ্গভবনে আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে সরাসরি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি।