English
ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য ঢোকা বন্ধ: শীতের আগে বাড়ছে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর: দুই দিন ধরে গাজা উপত্যকায় ঢুকছে না কোনো বাণিজ্যিক পণ্য। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামাসের আরোপিত করের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তের কারণে এই স্থবিরতা — তবে ফিলিস্তিনি আমদানিকারকরা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। ফল, শীতের পোশাকসহ বাণিজ্যিক চালান বন্ধ থাকায় খাদ্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের মানুষ শীতকাল পার করতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য ঢোকা বন্ধ: শীতের আগে বাড়ছে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

দোষারোপের পালা

গাজা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে ইসরায়েল যে পণ্য তার সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে ঢুকতে দেয়, তার ওপর। ত্রাণ সংস্থাগুলো সাধারণত ময়দার মতো প্রধান খাদ্য আনে, আর ব্যবসায়ীরা আনে ফল-মাংসের মতো পচনশীল পণ্য।

বুধবার বাণিজ্যিক চালান স্থগিতের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগ্যাট (যা গাজায় মানবিক বিষয় সমন্বয়ের দায়িত্বে)। সংস্থার উপ-মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট ড্যানিয়েল কান্টোরোভিচ বলেন, ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের আগের দিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অনুরোধে তা প্রত্যাহার করা যেতে পারে। তাঁর দাবি, "ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, হামাসের কর আরোপ পদ্ধতি ও হুমকির কারণে তারা সমন্বয় বাতিল করছে।"

তবে গাজার বেসরকারি ট্রাক মালিক সমিতির প্রধান নাহেদ শেহাইবার ইসরায়েলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, চালান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ীরা নয়। তিনি জানান, গাজার অর্থ মন্ত্রণালয় গাজায় ঢোকা প্রতিটি ট্রাকের জন্য ১০ হাজার শেকেল (প্রায় ৩,২২৬ ডলার) চেয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি খালেদ আল-রাকাব সমিতিকে বলেন, এটা কর নয়, বরং ভূখণ্ডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিতে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করা অনুদান।

শীতের আগে উদ্বেগ

মানবিক কর্মীরা সতর্ক করেছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ত্রাণ সরবরাহ ও কার্যকর বাণিজ্যিক বাজার — দুটোই প্রয়োজন। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মুখপাত্র শাইনা লো বলেন, "মানবিক খাত একা সব মানুষের চাহিদা মেটাতে পারে না। বাজারগুলো চালু থাকতে হবে।"

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ এ বছরের শুরুতে জানায়, ২০২৫ সালের আগস্টে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণার পর অবস্থার উন্নতি হলেও তা এখনো সংকটময় পর্যায়ে রয়েছে। উপত্যকার বেশিরভাগ পরিবার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার পাচ্ছে।

কোগ্যাটের হিসাব, গাজার প্রায় ২০ লাখ জনসংখ্যার প্রতিদিন প্রায় ২৫০ ট্রাক পণ্যের প্রয়োজন। এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতে দৈনিক ন্যূনতম ৬০০ ট্রাকের কথা ছিল — তার অনেক নিচে এই সংখ্যা।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা