ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
জাতীয়

'পারিবারিক অশান্তির' জেরে ঘর ছেড়ে কক্সবাজারে তিন শিক্ষার্থী, উদ্ধার করল পুলিশ

পারিবারিক অশান্তি আর কড়া শাসনের কারণে ঘর ছেড়ে কক্সবাজারে পালিয়ে যাওয়া সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে তিনজনকেই পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

'পারিবারিক অশান্তির' জেরে ঘর ছেড়ে কক্সবাজারে তিন শিক্ষার্থী, উদ্ধার করল পুলিশ

ছবি: দ্য ডেলটা লেন্স

যেভাবে ঘর ছাড়ে তারা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর সকালে স্কুল ও মাদ্রাসায় যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ওই তিন বান্ধবী। তাদের মধ্যে দুজন শ্রীনগরের উত্তর বালাসুর এলাকার ভাগ্যকুল হরেন্দ্রনাথ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, আরেকজন বালাসুর দারুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বাড়ি থেকে বেরিয়ে তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম হয়ে পৌঁছে যায় কক্সবাজারে।

সেখানে নিজেদের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে এবং ঢাকার মিরপুরের একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ওই হোটেলে ২০ হাজার টাকায় তিন দিনের জন্য একটি কক্ষ ভাড়া করে তারা। কক্ষ ভাড়া নিতে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক তাদের সহযোগিতা করেন। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে ১৫ অক্টোবর শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ডিজিটাল সূত্রে উদ্ধার

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও 'ফ্রি ফায়ার' গেম খেলার মাধ্যমে নিখোঁজ এক ছাত্রীর সঙ্গে রাঙামাটির ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের পরিচয় হয়েছিল। শ্রীনগর থানা পুলিশের একটি দল রাঙামাটির কোতোয়ালি থানা এলাকায় গিয়ে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিন ছাত্রী চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এরপর ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে শ্রীনগর থানা পুলিশ।

কেন পালিয়েছিল

রোববার (১৮ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, মূলত বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহ, মানসিক চাপ, কঠোর অনুশাসন এবং স্বাধীনতার অভাব থেকেই ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবেও সম্ভাব্য বিপদের কথা না ভেবেই তারা বাড়ি ছাড়ে। এমনকি সেখান থেকে সুযোগ বুঝে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

পুলিশের দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে কোনো বড় বিপদের মুখোমুখি হওয়ার আগেই তিন কিশোরীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রযুক্তির আসক্তি আর পারিবারিক দূরত্ব বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর-কিশোরীদের কতটা বেপরোয়া করে তুলতে পারে।