দেশে হাম প্রাদুর্ভাবে থামছে না মৃত্যুর মিছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ হিসাবে রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন ও পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর মিলিত সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ১৯৬ জনে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মোট মৃত্যুর মধ্যে ১ হাজার ৯২ জন সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যু হিসেবে শ্রেণীকরণ করা হয়েছে, আর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত মৃত্যু ১০৪ জন। সাম্প্রতিক এই সাতটি মৃত্যুর সবগুলোই সন্দেহভাজন তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
একদিনে নতুন রোগী ১,২৫৮
শুধু মৃত্যুই নয়, নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। আলোচ্য ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হামের ১ হাজার ২৫৮টি নতুন কেস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ৬৫টি নতুন কেস পাওয়া গেছে, ফলে নিশ্চিত সংক্রমণের মোট সংখ্যা ২৩ হাজার ১২২ জন।
মার্চ থেকে ভর্তি প্রায় ১.৯ লাখ
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন, অধিদপ্তরের তথ্য বলছে।
কেন থামছে না সংক্রমণ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কভারেজে ঘাটতি ও রোগী ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাই প্রাদুর্ভাবকে দীর্ঘায়িত করছে। এপ্রিলে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ পুনরায় চালুর পর জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চললেও সংক্রমণের গতি কমানো যাচ্ছে না। টিকা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে শিশুদের তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে—ফলে বর্তমান ঢেউ আরও কমপক্ষে এক মাস অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডে প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও এবারের প্রাদুর্ভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশের অন্যতম ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে।