বিরোধী দলের আন্দোলন উপেক্ষা করে সরকার দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। আর সেই পথ দিয়েই আওয়ামী লীগকে ইচ্ছা করে দেশে ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ছবি: প্রথম আলো
চকলেট আর বিরিয়ানি
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরওয়ার বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছেন। আর বিরোধী দল কথা বললেই অন্য কোনো খাত থেকে সামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাঁর ভাষায়, "বাচ্চারা কান্নাকাটি করলে তাদের চকলেট দেওয়া হয়। বিরোধী দলকে চকলেট দিয়ে খুশি করে, আর তারা বিরিয়ানি খায়।"
বর্তমান সরকার রাষ্ট্র, সরকার আর সরকারি দল, এই তিনটিকে গুলিয়ে ফেলছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত সেক্রেটারি। সরকারের অপকর্মের বিরোধিতা করলেই সেটিকে রাষ্ট্রের বিরোধিতা বলা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, একদলীয় কর্তৃত্ব খাটিয়ে সরকারই প্রকারান্তরে ফ্যাসিবাদকে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে। নিজেদের দলীয়করণ, ব্যর্থতা আর দুর্নীতি ঢাকতে "জুজুর ভয় দেখিয়ে" সব দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে।
গত কয়েক মাসে তিন মন্ত্রী ও এক সংসদ সদস্য বিদায় নেওয়ায় সরকারের ভেতরে একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই নিয়ে বিতর্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বক্তব্যের জবাবও দেন জামায়াত সেক্রেটারি। বিরোধী দল জুলাইকে ধারণ করে না, প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যকে "হাস্যকর" বলে উড়িয়ে দিয়ে পরওয়ার বলেন, জামায়াতসহ ১১টি দল জুলাইকে ধারণ করে বলেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আছে। আর বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে না বলেই গণভোটকে অস্বীকার করছে।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার নাম অতিথি তালিকায় না থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি। কার্ড পাঠিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কার্ডে বা তালিকায় কোথাও নাম ছিল না বলে দাবি করেন পরওয়ার। "তিনি কি সেখানে গিয়ে সাধারণ শ্রোতাদের চেয়ারে বসবেন?" এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
রিজভীর প্রশ্নের জবাব
গত রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানতে চেয়েছিলেন, ফ্যাসিস্টদের পথ কী। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিজম চিনেছে আওয়ামী লীগকে দিয়ে। মাত্র সাত মাসের মধ্যে রিজভী সেটি ভুলে গেছেন। "ফ্যাসিস্ট চিনতে হলে তাঁকে দলীয় কর্মীদের কাছে ফেরত যেতে হবে। ফ্যাসিস্টের কাজ ওরা বলতে পারবে।"
চাঁদাবাজি, ধ্বংস, খুন আর লুণ্ঠনকেই ফ্যাসিবাদের পথ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায় উপেক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। বিএনপি এখন সেই পথে যাত্রা করছে।
১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটের অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। পরওয়ারের দাবি, জামায়াত কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি। সেদিন সব বিরোধী দলের লিয়াজোঁ কমিটি হয়েছিল, জামায়াত ছিল সেই সম্মিলিত কর্মসূচিতে। বিএনপির অবস্থানের কারণেই সেবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল।
সৌদির ঘটনায় কূটনৈতিক ব্যর্থতা
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা দেখা গেছে বলেও অভিযোগ করেন পরওয়ার। তাঁর ভাষায়, বিচার শুরুর আগে, আসামি হওয়ার মুহূর্তেই বিষয়টি সরকারের নোটিশে আসার কথা ছিল। দূতাবাস নিজেও জানেনি, সরকারকেও জানায়নি। "যখন বিচার কার্যকর হয়ে গেছে, তখন সরকারের ঘুম ভেঙেছে।"
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।