ওয়াশিংটন, ১৮ অক্টোবর: রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মওকুফের একদিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নে প্রশাসন সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় নেবে।
শুক্রবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে গ্রাহাম আইনের আওতায় রাশিয়ার ওপর আরোপিত গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মওকুফ করেন। আইনটি গত মাসে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছিলেন। মওকুফের আওতায় ছিল রাশিয়ান পণ্যের ওপর শুল্ক এবং রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর জরিমানা—যা আগামী সপ্তাহে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
৬০ দিনের পর্যালোচনা
উজবেকিস্তান সফরে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, "প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের সময় নিয়ে বিশ্লেষণ করতে চান—নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ বিশ্ব অর্থনীতি এমনকি মার্কিন অর্থনীতির জন্য কী অর্থ বহন করবে।"
জটিলতার একটি বড় দিক হলো—গ্রাহাম আইনে শুধু রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাই নয়, রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যের ওপর শুল্কেরও বিধান রয়েছে। রুবিও ভারতের কথা উল্লেখ করেন—যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভারত জ্বালানি উৎস বহুমুখী করলেও রাশিয়ার তেলের ওপর এখনও অনেকাংশে নির্ভরশীল।
জেলেনস্কির সমালোচনা
শুক্রবারের নির্বাহী আদেশের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর সতর্কবাণী—এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উৎসাহিত করবে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে।
সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্রাহামও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রয়াত ভাই লিন্ডসি গ্রাহাম যে আইনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, সেটির নামেই গ্রাহাম আইন।
ডিজেল চুক্তি
পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর একটি পৃথক চুক্তিও সমর্থন করেছেন রুবিও। ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া প্রাথমে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল দেবে, নভেম্বর ও তার পরেও চালান আসবে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই চুক্তি দাম কমাতে সহায়ক হবে বলে তাঁদের দাবি।
সূত্র: ডেইলি ওয়াদা, রয়টার্স