কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নারিনিও প্রদেশে অবৈধভাবে চালু থাকা একটি স্বর্ণখনি ধসে অন্তত ১৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
ছবি: আল জাজিরা
প্রাদেশিক সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে শহরের কাছে ওই উন্মুক্ত স্বর্ণখনি ধসে পড়ে। সোমবার রাতেই সেখানে তল্লাশি অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
অনিয়ন্ত্রিত খনির পুরনো ক্ষত
বিবৃতিতে নারিনিও সরকার বলেছে, এই দুর্ঘটনা আবারও অনানুষ্ঠানিক খনির ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এলো। তিন মাসেরও কম সময়ে প্রদেশটিতে দুটি খনি ধসে ২৭ জনের প্রাণ গেছে। গত আগস্টে পলিকারপা পৌরসভায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।
নারিনিওর গভর্নর লুইস আলফোনসো এস্কোবার শোক জানিয়ে বলেন, "এই দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারের প্রাণ গেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।" তিনি এক্সে লিখেছেন, ধসে পড়া খনিটি ছিল "অনানুষ্ঠানিক"।
দুর্গম এলাকা, নিরাপত্তা সংকট
সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে ঘন জঙ্গলে ঘেরা একটি দুর্গম শহর, যেখানে শুধু নৌকা বা ছোট বিমানে পৌঁছানো যায়। এ কারণে ত্রাণকর্মীদের এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলম্বিয়ায় সরকারি অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হয় শত শত ছোট খনি। এর কিছু নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ইসকুয়ান্দে এলাকায় দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সক্রিয়, যার মধ্যে আছে হাকোবো আরেনাস ব্লক, ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করা সাবেক ফার্ক সদস্যদের একটি দল।
কলম্বিয়ার মানবাধিকার দপ্তর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ত্রাণকাজে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দপ্তরটি এক্সে লিখেছে, "প্রাণ রক্ষা ও এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব প্রচেষ্টা কাজে লাগাতে হবে।"
নারিনিওর দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মকর্তা হোর্হে তোবার কাস্তিয়ো জানিয়েছেন, আরও ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়েছে।
কলম্বিয়ার গ্রামাঞ্চলে অনানুষ্ঠানিক ও অনিয়ন্ত্রিত খনি চালানো সাধারণ ঘটনা। এসব খনিতে নিরাপত্তা কাঠামোর বড় ঘাটতি থাকে, ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা বারবার ঘটে। এবারের ঘটনায় সেখানে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু আবার সেই বাস্তবতাই সামনে নিয়ে এলো।
সূত্র: আল জাজিরা