রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার পর্যন্ত সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মীরা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এই হামলার ঢেউকে গৃহযুদ্ধের অন্যতম রক্তক্ষয়ী পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছবি: রয়টার্স
আল-দিবাবে বাজারের কাছে ভয়াবহ হামলা
সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি হয়েছে রোববার সন্ধ্যায় পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে। বাসিন্দা ও চিকিৎসা কর্মীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বাজারের দিন শেষে গ্রামবাসী যখন বাড়ি ফেরার গাড়ির অপেক্ষায় একটি পরিবহন কেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন, তখন ড্রোনটি আঘাত হানে। এতে ৮০ জন নিহত হন।
নিহতদের দাফনে সহায়তা করা বাসিন্দা আহমেদ আবাকার ওয়াদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে তার ভাইয়ের মরদেহও ছিল। আহত ৪৭ জনকে নেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী আল-মুজলাদ শহরে, সেখানে পরে আরও ৩০ জন মারা যান। ওয়াদির ভাষায়, “ড্রোনটি একবার আঘাত হানে, দশ মিনিট পর ফিরে এসে আবার হামলা চালায়।”
আরএসএফের স্বঘোষিত প্রশাসন তাসিস ও সুদানি অধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এই হামলার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
নিয়ালা, খার্তুমেও হামলা
সোমবার ভোরে দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী নিয়ালায় আরেকটি ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতজন আরএসএফ কর্মকর্তা। আহত হন ২৩ জন, ধ্বংস হয় দুটি বাড়ি। সোমবার সকালে রাজধানী খার্তুমে বিমানবন্দরের পূর্বের একটি এলাকার বাড়িতে ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হন, যাদের তিনজনই শিশু, বয়স দুই থেকে ছয় বছরের মধ্যে।
পূর্ব সুদানে গাদারেফ রাজ্যের আতবারা ও সেতিত বাঁধ লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সেনাবাহিনী। আবেইয়ের ব্যস্ত বাজারে সোমবারের হামলায় অন্তত ১৯ জন আহত হন। এর আগে শুক্রবার ব্লু নাইল প্রদেশে ইথিওপিয়া সীমান্তের কাছে বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর হামলায় ৪১ জন নিহত হয়েছিলেন।
জাতিসংঘের নিন্দা
সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, “শিশুসহ বেসামরিক মানুষ হত্যা করা এবং জরুরি সেবা ব্যাহত করা এই ধারাবাহিক মারাত্মক ড্রোন হামলায় আমরা উদ্বিগ্ন।” তিনি সব হামলার “দ্ব্যর্থহীন নিন্দা” জানান।
রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো বাইরের পক্ষগুলোর প্রতি সহিংসতা ও ড্রোন ব্যবহারে ইন্ধন না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ প্রধান মোহামেদ হামদান দাগালোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর ২ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন।
সূত্র: রয়টার্স