ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
অর্থনীতি

আগামী ১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণের জন্য চাকরি মাত্র ৪০ কোটি: বিশ্বব্যাংক প্রধানের হুঁশিয়ারি

আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ-তরুণী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবে—কিন্তু তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে মাত্র ৪০ কোটির মতো। অর্থাৎ প্রায় ৮০ কোটি তরুণকে মুখোমুখি হতে হবে বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতার। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার সমাপনী ভাষণে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।

আগামী ১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণের জন্য চাকরি মাত্র ৪০ কোটি: বিশ্বব্যাংক প্রধানের হুঁশিয়ারি

ছবি: প্রথম আলো

"চাকরির এই ঘাটতি একটি পূর্বাভাস মাত্র। এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ হতে হবে—এমন কোনো কথা নেই," বলেন বাঙ্গা। তাঁর ভাষায়, "চাকরি কোনো পরিসংখ্যান নয়; চাকরি মানে মর্যাদা।"

ইউক্রেন-মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, ঋণের পাহাড়, সরকারগুলোর সংকুচিত আর্থিক সক্ষমতা এবং জ্বালানি ও সারের চড়া দাম—এই বৈরী পরিবেশে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন বলে সতর্ক করেন তিনি।

সমাধানের তিন স্তম্ভ

সংকট মোকাবিলায় তিন স্তম্ভের কৌশল তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংক প্রধান: বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন ও ডিজিটাল সংযোগসহ ভৌত ও মানব অবকাঠামো; ব্যবসার জন্য সহজ নিয়ম ও সুশাসন; এবং বেসরকারি পুঁজির সক্রিয় অংশগ্রহণ। গত বছর বিশ্বব্যাংক অবকাঠামো খাতে ৪০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে—যা তাদের মোট অর্থায়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

সংস্থার সংস্কার

২০২৩ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাংকে ব্যাপক সংস্কার এনেছেন বাঙ্গা। প্রকল্প প্রস্তুতির সময় ১৯ মাস থেকে কমে ৯ মাসে দাঁড়িয়েছে; এক দশকে ঋণদান সক্ষমতা বেড়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ ২০২২ অর্থবছরের ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে গত বছর ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; ১১০টি দেশের বিনিয়োগকারীরা এতে অংশ নিয়েছেন। তবে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ এখনো মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে আটকে আছে বলে স্বীকার করেন তিনি।