সিউল, ১৬ অক্টোবর: দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতাঙ্গনে এবার চমক দেখাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। মানুষের লেখা কথায়, এআইয়ের তৈরি কণ্ঠে গাওয়া একটি গান জায়গা করে নিয়েছে দেশটির জনপ্রিয় সংগীত তালিকার শীর্ষ তিনে। এই সাফল্যে যেমন শ্রোতাদের আগ্রহ বেড়েছে, তেমনি সংগীতের ভবিষ্যৎ ও গানের মালিকানা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
'দ্য অ্যাডাল্ট আই ড্রিমড অব' শিরোনামের গানটি তৈরি করেছেন মেওমুরু। দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার দেশটির জনপ্রিয় সংগীত প্ল্যাটফর্ম মেলনের 'টপ ১০০' তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে গানটি। গত জুনে প্রকাশিত গানটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শর্ট ভিডিওর সঙ্গে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে — আর তাতেই বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা।
মানুষের কথা, এআইয়ের কণ্ঠ
গানটির কণ্ঠ তৈরি করা হয়েছে 'সুনো' নামের একটি এআই টুল ব্যবহার করে। তবে গানের কথা লিখেছেন মেওমুরু নিজেই। অ্যালবামের বিবরণ অনুযায়ী, সংগীত তৈরির পরিকল্পনা ও এআইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কাজও করেছেন তিনি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের বিবরণে মেওমুরু এআইকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করে। প্রযুক্তির পরিবর্তন হলেও গল্পের গুরুত্ব একই থাকে বলে মনে করেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ায় এআইয়ের সহায়তায় তৈরি গান জনপ্রিয় হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয় — এর আগে 'জোসন হিপহপ' ব্যান্ডের 'ফরেস্ট অব দ্য হার্ট' গানটি মেলনের 'টপ ১০০' তালিকায় ৮৯তম স্থান পেয়েছিল। ওই গানটির মূল ভাবনা ও কথা মানুষের তৈরি হলেও সুর ও কণ্ঠ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
স্বত্ব নিয়ে জটিলতা
এআইনির্ভর সংগীতের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এসব গানের স্বত্ব নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। কোনো গানে মানুষের সৃজনশীল কাজের পাশাপাশি এআইয়ের তৈরি উপাদান থাকলে কপিরাইটের অধিকার কার হবে — তা নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট সমাধান নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার কপিরাইট আইন অনুযায়ী, মানুষের সৃজনশীল অবদান স্বত্ব সুরক্ষার আওতায় আসতে পারে; তবে সম্পূর্ণভাবে এআইয়ের তৈরি উপাদান নিজে থেকে কপিরাইটের অধিকার পায় না।
এই জটিলতা মোকাবিলায় দেশটির সংগীত কপিরাইট সমিতি গত আগস্টে এআইয়ের সহায়তায় তৈরি গান নিবন্ধনের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, গান তৈরিতে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সৃজনশীল ভূমিকা থাকলে সেটি নিবন্ধনের সুযোগ ছিল, তবে কোন এআই টুল ব্যবহার করা হয়েছে, কতটুকু কাজে লাগানো হয়েছে এবং গানে মানুষের অবদান কতটুকু — এসব তথ্য দিতে হতো। কিন্তু চালুর মাত্র ২২ দিনের মাথায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পর্যাপ্ত ঐকমত্য না হওয়ায় নিয়মগুলো প্রত্যাহার করে নেয় সমিতি।
এআইয়ের সহায়তায় তৈরি গান মূলধারার সংগীতে জায়গা করে নেওয়ায় প্রযুক্তি ও মানুষের সৃজনশীলতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে — একই সঙ্গে এ ধরনের গানের স্বত্ব নির্ধারণে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার