ডেইলি খবর
সত্যের সন্ধানে, প্রতিদিন
ঢাকা সংস্করণ
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক ফ্রান্স

ফ্রান্সে হলুদ ভেস্ট সহিংসতায় আটক ২ হাজারের বেশি, আহত ৬০০ নিরাপত্তাকর্মী

ফ্রান্সে হলুদ ভেস্ট আন্দোলনের ডাকে শনিবার দেশব্যাপী যে বিক্ষোভ হয়েছে, তা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ রোববার জানান, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় সারাদেশে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আহত হয়েছেন পুলিশ, জেন্ডারম ও দমকলকর্মী মিলিয়ে ছয় শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী। তবে এই সংখ্যাকে সাময়িক বলে জানিয়েছে সরকার।

ফ্রান্সে হলুদ ভেস্ট সহিংসতায় আটক ২ হাজারের বেশি, আহত ৬০০ নিরাপত্তাকর্মী

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

শনিবারের বিক্ষোভের পর প্রথমে সংখ্যা কম ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শনিবার জানিয়েছিলেন, আটক করা হয়েছে এক হাজার ২০০ বিক্ষোভকারীকে, আহত হয়েছেন ১৫০ নিরাপত্তাকর্মী। প্যারিস পুলিশ শুধু রাজধানীতেই ৮৫৫ জনকে আটকের কথা বলেছে, যা তাদের হিসাবে রেকর্ড। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী ৭২০ জন আটক হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫১৭ জনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

কী নিয়ে বিক্ষোভ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেবে শনিবার সারাদেশে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যাদের এক লাখ ১০ হাজার ছিলেন প্যারিসে। আয়োজকদের দাবি, সংখ্যাটা আট লাখের মতো। বিক্ষোভে হলুদ ভেস্ট আন্দোলনের কর্মীদের পাশাপাশি যোগ দেন ট্রেড ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী ও কৃষকেরা। মূল দাবি—জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি থামানো। শিক্ষার্থীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষা খাতে বাজেট কাটছাঁট ও স্কুলের শোচনীয় অবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় এই দেশব্যাপী কর্মসূচি।

আগুন, লুটপাট ও প্রাণহানি

সহিংসতার সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে লিমোজে, যেখানে ১৪৩ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক সিটি হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মার্সেই, লিওঁ ও বোর্দোতে দোকানপাট লুটপাট ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের ব্যবসায়ী সংগঠন এফসিডির সভাপতি আলেক্সান্ডার বোমপার্ড বলেছেন, এক হাজার ৫০০টি খুচরা দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ শত শত মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়াতে পারে। প্যারিসে বুলেভার্ড ম্যাজেন্টায় এক বিক্ষোভকারী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। ফরাসি দৈনিক লো পারিজিয়েনের খবর অনুযায়ী, সাঁত-এতিয়েনে পুলিশের গ্রেনেডের আঘাতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

প্যারিসের ডেপুটি মেয়র লামিয়া এল আরাজে বলেছেন, রাজধানী এমন মাত্রার সহিংসতা আগে কখনো দেখেনি। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু রোববার সন্ধ্যায় সংকটবিষয়ক জরুরি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছেন। প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর মেয়ররাও তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ শুক্রবার শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল হলুদ ভেস্ট আন্দোলন; এবার সেই কর্মীরাই শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি