সংবিধান সংশোধন নিয়ে কাজ করা কমিটির কার্যক্রমে বিরোধী দলের সদস্যদের অনুপস্থিতি বড় কোনো আইনি বা রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করবে না। এমনটাই জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ছবি: টাইমস
মঙ্গলবার বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মিংগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আসাদুজ্জামান বলেন, সংবিধান সংশোধনের মূল প্রক্রিয়া হবে জাতীয় সংসদে। "বিল সংসদে উত্থাপিত হলে বিরোধী দলের সাংসদরা উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেবেন। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের অনুপস্থিতি বড় কোনো অচলাবস্থা তৈরি করবে না।"
সংঘাত বা বয়কটের পথে না গিয়ে সংসদীয় রীতিনীতি মেনে সংসদই হবে সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনার চূড়ান্ত মঞ্চ, এমন মন্তব্য করেন মন্ত্রী। প্রসঙ্গত, সংবিধান সংস্কার নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের যোগদান নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি কমিটিতে না যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, সংবিধান সংস্কার হওয়া উচিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে।
দূতাবাস নিয়ে অভিযোগ ও সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড
বিদেশে আটক বাংলাদেশি বন্দীদের ব্যাপারে দেশের দূতাবাসগুলো অবহেলা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ঢালাও অভিযোগ করা ঠিক নয়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলা বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। তবে ভিয়েনা কনভেনশন এবং সৌদি আইনের আওতায় প্রাসঙ্গিক আইনি নথিপত্র ভালোভাবে পরীক্ষা না করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। "কোন আইনি ভিত্তিতে সৌদি সরকার আমাদের দুই নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, নথিপত্র না দেখে তা বলা ঠিক হবে না," বলেন তিনি।
এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ার ওপর গুরুত্ব দেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।