ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভের দায় আবারও অভিবাসনের ওপর চাপিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, প্যারিস "খুব শিগগিরই মুসলিমদের শহরে পরিণত হবে।" সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ছবি: দ্য ডেলটা লেন্স
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নিজের একটি পুরোনো কথোপকথন স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, "আমি তাঁকে অনেক আগেই বলেছিলাম, ফ্রান্সে তুমি বড় ভুল করছ। তুমি বিশ্বের সবাইকে ঢুকতে দিচ্ছ। পুরো বিশ্ব ঢুকে পড়ছিল, আর তোমরা জানো, প্যারিস খুব শিগগিরই মুসলিমদের শহর হয়ে যাবে—আর সেটা চুক্তি ছিল না।"
সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি এমানুয়েলকে বলেছি—তোমার সীমান্ত বন্ধ করা উচিত। আমরা আমাদের সীমান্ত বন্ধ করেছি, তিনি করেননি। আর তোমরা জানো কী? তাঁর সীমান্ত এখন সমস্যা।" ইউরোপের উদ্দেশে তাঁর সতর্কবাণী: "ইউরোপ যদি দ্রুত সীমান্ত বন্ধ না করে এবং অপরাধীদের বের করে না দেয়, তবে মহাদেশটির ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাবে।"
একই দিন সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, "অভিবাসীরা ফ্রান্স দখল করে নিয়েছে। তাদের অবিলম্বে সীমান্ত বন্ধ করতে হবে!" কানসাসে এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্স "অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টদের দ্বারা দখল, লুটপাট ও ধ্বংসের শিকার হচ্ছে।"
বাস্তবে কী ঘটছে ফ্রান্সে
শিক্ষক সংকট ও অপ্রতুল শিক্ষা বাজেটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক ও অন্যান্য শ্রমিক সংগঠন যোগ দেয় মূল্যবৃদ্ধি ও রেকর্ড জ্বালানি মূল্যের বিরুদ্ধে। সপ্তাহান্তে এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়, ভাঙচুর ও লুটপাট চলে। লিমোজের ঐতিহাসিক টাউন হলসহ বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন সোমবার জানান, সপ্তাহান্তে সারা দেশে দুই হাজার ৩৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় এক হাজার নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছেন। প্যারিস, লিল ও নিসে আংশিক কারফিউ ও জনসমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ "চরম বামপন্থী গোষ্ঠীর বিদ্রোহী উপাদান ও অসংখ্য অপরাধীদের" চালানো "অসংযত সহিংসতা"র নিন্দা জানান। প্রকৃত দাবি নিয়ে রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের তিনি আলাদা করে দেখেন।
নভেম্বরের ৩ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার খবর আসার পর থেকে ট্রাম্প বারবার ফ্রান্স প্রসঙ্গ টেনে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান জোরদার করছেন।